FlowSaga সম্পর্কে
ভাবনাকে চলচ্চিত্রে রূপ দিন। গল্পটা রেখে দিন।
কেন আমি FlowSaga বানালাম
প্রথম যেদিন অন্য কারও একটা Flow এক্সটেনশন ব্যবহার করলাম, পুরো দশ মিনিট শুধু তাকিয়ে ছিলাম। আমি কিছুই বুঝিনি। দেখতে খারাপ ছিল বলে নয়। জিনিসটা যে কী করছে, সত্যিই ধরতে পারছিলাম না — বোতামগুলোর নাম বুঝতে পারছিলাম না, ক্রমের কোনো মানে ছিল না, আর কিছু চাপলে কী ঘটল তাও বুঝতে পারছিলাম না।
দাঁতে দাঁত চেপে একবার শেষ পর্যন্ত গেলাম। একটা সমস্যারও সমাধান হলো না। আমি জানতাম কী চাই। ছবিটা ঠিক আমার মাথার ভেতরে ছিল। শুধু সেটা বাইরে আনতে পারছিলাম না।
সেই পর্দার সামনে বসে বুকের ভেতর হতাশা জমে উঠছিল। যন্ত্রটার ওপর রাগ নয় — নিজের ওপর রাগ। ভেবেছিলাম একটা যন্ত্র আমাকে এই কাজে আরও ভালো করে তুলবে। বেরিয়ে এলাম নিজেকে বোকা মনে করে।
পরে একটা জিনিস বুঝলাম। দোষটা আমার ছিল না।
কোনো কিছুতে দক্ষ হওয়ার আগে একটা দরজা থাকে। অনুশীলন শুরু হওয়ার আগেই সেটা পড়তে পারতে হবে, আর ব্যবহার করতে চাইতে হবে।
দরজাটা খুব উঁচুতে বসালে আপনি যত প্রতিভাবানই হোন, কিছু যায় আসে না। আপনি বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকেন। আমার ইংরেজি দুর্বল। সেই এক্সটেনশনটা ছিল শুধু ইংরেজিতে, যা আমার ভাষা নয়, আর ইন্টারফেসটাও ছিল জটিল; আমি পড়তে পারছিলাম না। তাই ঠিক করলাম নিজেরটা বানাব। এমন একটা, যা আমি পড়তে পারি, আর আপনিও পারেন। সেই দিনটার জন্যই আমি FlowSaga বানিয়েছি।
নামটি কোথা থেকে এল: সাগা, গল্পের দেবী
নর্স পুরাণে Sökkvabekkr নামে একটা জায়গা আছে — “ডুবে যাওয়া স্রোতধারা”। তার ভেতর দিয়ে শীতল ঢেউ বয়ে যায়, কখনো থামে না। ওডিন প্রতিদিন সেখানে যান।
এক নারী তাঁর জন্য অপেক্ষা করেন। দুটি সোনার পেয়ালা। তাঁরা পান করেন। কথা বলেন। প্রতিদিন, একদিনও বাদ না দিয়ে। তাঁরা কী বলেছিলেন? কেউ লিখে রাখেনি।
অনেক পরে কেউ একজন নর্স দেবতাদের একটা বইয়ে লিখে রাখলেন। তাতে দেবীদের একটা তালিকা আছে — ষোলোজন। প্রথম, ওডিনের স্ত্রী। দ্বিতীয়, তিনি: Sága। তাঁর সম্পর্কে বইটি একটিমাত্র বাক্য রেখে গেছে: তিনি থাকেন Sökkvabekkr-এ, আর সেটা এক বিশাল জায়গা।
তাঁর নামের অর্থ কী, পণ্ডিতেরা আজও তর্ক করেন। এক পক্ষ বলে দেখা। অন্য পক্ষ বলে — গল্প। তিনি প্রতিদিন কথা বলতেন। একটি বাক্যও টিকে নেই।
যে ভাবনা কখনো বানানো হয়নি, কখনো লেখা হয়নি, সেটা যেন কখনো ঘটেইনি।
প্রাচীন নর্স ভাষায় Saga মানে “গল্প”। Flow হলো সেই Google Flow, যেখানে আপনি ভিডিও বানান — আর সেই স্রোতধারা, যেখানে সাগা থাকেন। আমাদের প্রতীক একটি লম্বা জাহাজ, পুরাণের জাহাজের মতো: পাল তুলুন, বাতাস আপনার পক্ষে; দরকার না হলে কাপড়ের মতো ভাঁজ হয়ে পকেটে ঢুকে যায়। পালের ওপরের S হলো Saga।
একশো তেরোটি বাছুর
বিকেল তিনটে, অথচ এর মধ্যেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। এ হলো আইসল্যান্ড, হাজার বছর আগের। কোনো রাজা নেই। কোনো রাজদরবার নেই। কোনো শহর নেই। শুধু একটা আগুন, আর তাকে ঘিরে মানুষ। কেউ বলতে শুরু করে: পারিবারিক বিবাদ, একটা মামলা, একটা হত্যা।
সেই শতকে একবার বলা হয়ে গেলে গল্প হারিয়ে যেত। পরের শীতে আবার বললে খুঁটিনাটি সরে যায়; এক প্রজন্ম পরে কথক মারা যান, আর গল্পটা তাঁর সঙ্গেই কবরে যায়।
আইসল্যান্ডবাসীরা মেনে নেননি। তাঁরা ঠিক করলেন লিখে রাখবেন। কিন্তু কাগজ ছিল না। লিখতে হলে একটা বাছুর মারতে হতো: চামড়া ছাড়িয়ে, চেঁছে পাতলা করে, শুকিয়ে। একটা চামড়া, মাঝখান থেকে ভাঁজ করলে, দিত মাত্র দুটি পাতা। মধ্যযুগের আইসল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পাণ্ডুলিপি Flateyjarbók: দুশো পঁচিশটি পাতা — একশো তেরোটি বাছুর।
আর এই দ্বীপে একটা দুধেল গাভি সম্পদ নয়। সেটা হলো আপনার সন্তানেরা শীতটা পার করতে পারবে কি না। ইউরোপের অন্য জায়গায়, সেই একই শতকগুলোতে, এত দামি লেখা যেত লাতিনের কাছে: বাইবেল, সন্ত আর রাজবংশের বংশতালিকায়। আইসল্যান্ডবাসীরা তা খরচ করলেন নিজেদের শব্দে, নিজেদের মানুষে, নিজেদের গল্পে।
একটা গল্প থাকার জন্য নয়। সেটাকে সত্যিই অস্তিত্বে আনার জন্য।
আঘাত কোরো না
ত্রয়োদশ শতক। Snorri Sturluson নামে এক আইসল্যান্ডবাসী একটা ভয়ংকর জিনিস লক্ষ করেন: তরুণ কবিরা আর পুরোনো কবিতা পড়তে পারে না। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হাতে হাতে চলে আসা একটা শিল্প তাঁর প্রজন্মের হাতেই ভেঙে পড়তে চলেছে।
তিনি শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে থেমে যেতে পারতেন। বেশিরভাগ মানুষ তা-ই করে। তিনি তা করেননি। তিনি বসে একটা বই লিখলেন। কবিতা নয়। একটা নির্দেশিকা: এই শব্দের মানে কী, এই চিত্রকল্প কোথা থেকে এল, কীভাবে এটা ব্যবহার করতে হয়। তাঁদের জন্য, যাঁরা তখনও লিখতে চাইতেন, কিন্তু পড়তে পারতেন না।
তিনি যা গড়েছিলেন, তা ছিল একটা দরজা। আর তিনি সেটাকে নিচু করে দিলেন।
সাল 1241। তেইশে সেপ্টেম্বর। রাত। লোকজন জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তাঁর শেষ কথা, মাত্র তিনটি শব্দ: Eigi skal höggva. আঘাত কোরো না।
তিনি বাঁচেননি। বইটি বেঁচে গেছে। নর্স পুরাণ সম্পর্কে পৃথিবী যা জানে, তার প্রায় সবটাই এসেছে সেই বই থেকে। দেবীদের তালিকাটিও। সাগাকে নিয়ে সেই একটিমাত্র লাইনও।
FlowSaga কী করে
এবার আপনার পালা। গল্প বানাতে আর একটা বাছুরের দাম লাগে না। কয়েকটা লাইন টাইপ করুন, আর একটা ছবি আসে, নড়তে নড়তে।
কিন্তু কঠিন কাজটা কখনোই টাইপ করা ছিল না। কঠিন হলো একটা ভালো ভাবনা থাকা, অথচ সেটা পরিষ্কার করার কোনো উপায় না থাকা, পরের ধাপটা নেওয়ার কোনো উপায় না থাকা। আর অবশেষে যখন ভিডিওগুলো বানান, ডাউনলোড ফোল্ডার খুলে দেখেন ফাইলের নামগুলো অর্থহীন হিজিবিজি — কোনটা কোনটা, তাও বোঝা যায় না।
FlowSaga দরজাটা নিচু করে, তারপর বাঁধাইয়ের কাজটা নিজেই করে।
সবচেয়ে উঁচু দরজা হলো ভাষা। জটিল ইন্টারফেস নয়। যন্ত্রটায় আপনার শব্দগুলোই নেই। FlowSaga 91টি ইন্টারফেস ভাষায় কথা বলে। হাজার বছর আগে ইউরোপ লেখাকে লাতিনের জন্য তুলে রেখেছিল; আইসল্যান্ডবাসীরা নিজেদের গল্প লিখতে ব্যবহার করেছিলেন সেই শব্দগুলো, যেগুলোতে তাঁরা সত্যিই কথা বলতেন। আমরা আইসল্যান্ডবাসীদের পক্ষে।
দ্বিতীয় দরজা হলো সময়। তিরিশ সেকেন্ড — এটাই আমার মাপকাঠি: খুলুন, আর তিরিশ সেকেন্ডের মধ্যে আপনার জানা উচিত কীভাবে শুরু করবেন। তারপর একসাথে কয়েক ডজন ভাবনা, একটা একটা করে তৈরি, প্রতিটি আপনার দেওয়া শিরোনামে, পরিপাটি করে, আপনার বেছে নেওয়া ফোল্ডারে সেভ হয়। সেই ফোল্ডারটি ধীরে ধীরে আপনার নিজের একটা বই হয়ে ওঠে।
ভাবনা থাকা কঠিন নয়। সেগুলো পরিষ্কার করা, তারপর সত্যিই বানানো — সেটাই কঠিন। কী বানাবেন, তা নিয়ে যে কেউ কথা বলতে পারে।
আইসল্যান্ডবাসীরা শুধু বলেই থামেননি। তাঁরা একশো তেরোটি বাছুর মেরে সেগুলোর চামড়ায় গল্পগুলো লিখেছিলেন। স্নোরি শুধু দুশ্চিন্তা করেই থামেননি। তিনি বসে নির্দেশিকাটা লিখেছিলেন। সাগা প্রতিদিন কথা বলতেন, কিন্তু কেউ তাঁর হয়ে কাজটা করেনি। তাই আজ আমাদের হাতে আছে শুধু তাঁর নামটুকু।
আপনার মাথার ছবিগুলোর অস্তিত্ব পাওয়ার অধিকার আছে। সেগুলোকে শুধু একটা নাম হয়ে থাকতে দেবেন না।
ভাবনাকে চলচ্চিত্রে রূপ দিন। গল্পটা রেখে দিন।
— HONG-WEI SIAO, FlowSaga-এর প্রতিষ্ঠাতা